পেট্রোবাংলার স্বাগতম
 
 
পেট্রোবাংলা
 

২৬ মার্চ, ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭ এর মাধ্যমে দেশের তেল, গ্যাস খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ খনিজ, তেল গ্যাস করপোরেশন (বিএমওজিসি) গঠিত হয়। ১৯৭২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১২০ এর মাধ্যমে দেশের খনিজ অনুসন্ধান উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে “বাংলাদেশ খনিজ অনুসন্ধান উন্নয়ন করপোরেশন” (বিএমইডিসি) নামে অপর একটি সংস্থা গঠন করা হয়। বাংলাদেশ খনিজ, তৈল গ্যাস করপোরেশন (বিএমওজিসি)-কে বাংলাদেশ তৈল গ্যাস করপোরেশন (বিওজিসি) নামে পুনর্গঠন করা হয় এবং ১৯৭৪ সালের ২২ আগস্ট রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৫ এর মাধ্যমে বিওজিসি’কে ‘পেট্রোবাংলা’ নামে সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয়। ১৯৭৪ সালের ১৭ নং অধ্যাদেশ-এর মাধ্যমে অয়েল এন্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৬১-কে বাতিল করে অয়েল এন্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ওজিডিসি) বিলুপ্ত করা হয় এবং উহার সম্পদ দায় পেট্রোবাংলা’র উপর ন্যস্ত করা হয়। ১৯৭৬ সালের ১৩ নভেম্বর জারিকৃত অধ্যাদেশ নং ৮৮ এর মাধ্যমে নবগঠিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে অপরিশোধিত তেল পেট্রোলিয়াম দ্রব্যাদি আমদানি, পরিশোধন বিপণন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

১৯৮৫ সালের ১১ এপ্রিল জারিকৃত ২১ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিওজিসি বিএমইডিসিকে একীভূত করে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস খনিজ সম্প করপোরেশন (বিওজিএমসি) গঠন করা হয়। অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশের আংশিক সংশোধনক্রমে ১৯৮৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত ১১ নং আইন এর মাধ্যমে এই করপোরেশনকে “পেট্রোবাংলা” নামে সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয় এবং তৈল, গ্যাস খনিজ অনুসন্ধান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে গঠিত কোম্পানিসমূহের শেয়ার ধারণের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়।

পেট্রোবাংলার ইতিহাস
 

সূচনাঃ ১৯৪৭ পর্যন্ত
বাংলাদেশ ভূখন্ডে তৈল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম কতিপয় বিচ্ছিন্ন ভূ-তাত্ত্বিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধে শুরু হয়। ১৯০৮ সালে সীতাকুন্ডে ইন্ডিয়ান পেট্রোলিয়াম প্রসপেক্টিং কোম্পানী তৈল ও গ্যাস পাওয়ার জন্য প্রথম ঐকান্তিক প্রচেষ্টা গ্রহণ করে এবং ১৮ বছর পর দিগবয়, আসামে প্রথম তৈলক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। ১৯২৩-৩১ সময়ে বার্মা অয়েল কোম্পানী (বিঅসি) পাথারিয়াতে ২টি অগভীর কূপ (Shallow Wells) খনন করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী তৈলের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও কূপ ২টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। সেখানে মোট ৬টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়, তন্মধ্যে গভীরতমটি ছিল ১০৪৭ মিটার। মোটকথা, তখন কোন কিছু আবিস্কৃত হয়নি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এ বিষয়ে পুন:কার্যক্রম গ্রহন বাধাগ্রস্থ করে।

অন্তবর্তী সময়ঃ ১৯৪৮ হতে ১৯৭১
১৯৪৮ সালে পেট্রোলিয়াম আইন জারী করায় তা তৈল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তৈল কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। যুক্তরাষ্ট্রের ষ্টান্ডার্ড ভ্যাকুয়াম অয়েল কোম্পানি (এসটিএএনভিএসি), পাকিস্তান পেট্রোলিয়াম লিঃ (পিপিএল) বার্মা অয়েল কোম্পানি এবং পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি (পিএসওসি) ষাটের দশকের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসটিএএনভিএসি দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের হাজিপুর, বগুড়া ও কুচমাতে ৩টি কূপ খনন করলেও কোন সফলতা পায়নি। পিপিএল হরিপুর, পাথারিয়া, ছাতক, ফেঞ্চুগঞ্জ, পটিয়া ও লালমাইতে কূপ খনন করে এবং ১৯৫৫ সালে প্রথমে হরিপুরে, পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে ছাতকে গ্যাস আবিস্কার করে। তারাই প্রথম সমুদ্রাঞ্চল (Offshore) কক্সবাজারে কূপ খনন করে, যদিও তা শুষ্ক (Dry) ছিল।

১৯৬১ সালে অয়েল এন্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (অজিডিসি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে তৈল ও গ্যাস অনুসন্ধান একটি প্রতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ওজিডিস গ্র্যাভিটি, ম্যাগনোটিক ও সাইসমিক ধরণের ভূতাত্ত্বিক জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং জলদি ও সেমুতাং-এ কূপ খনন করে ১৯৭০ সালে সেমুতাং-এ গ্যাস আবিস্কার করে।

সামনে এগিয়ে চলাঃ ১৯৭২ হতে ১৯৭৯
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর যুগপৎসাথে দেশী ও বিদেশী কোম্পানী সমূহের অনুসন্ধান কার্যক্রমে গতি সঞ্চারিত হয়। ১৯৭৪ সালে যখন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন পাসের মাধ্যমে প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাকের (পিএসসি) আওতায় বিদেশীদের অংশগ্রহণ সহজতর (Facilitate) করা হয়, তখনও বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এর অনুসন্ধান প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। পিএসসি’র আওতায় বাংলাদেশের সমুদ্রাঞ্চলকে ৬টি ব্লকে বিভক্ত করা হয়, যেগুলো অশল্যান্ড (Ashland), আরকো (ARCO), বিওডিসি (জাপেক্স) (BODC (Japex), ইউনিয়ন অয়েল, কানাডিয়ান সুপিরিয়র অয়েল ও ইনা নাফটাপ্লিন (Ina Naftaplin) গ্রহণ করে। এ কোম্পানিগুলো গ্রাভিটি, ম্যাগানটিক ও সাইসমিক জরিপ (প্রায় ৩২,০০০কি.মি.) সম্পন্ন করে এবং ৭টি কূপ খনন করে। তন্মধ্যে কেবল ইউনিয়ন অয়েল কোম্পানি ১৯৭৭ সালে সমুদ্রাঞ্চল কুতুবদিয়াতে একটি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করে। ১৯৭৮ সালে পিএসসি অপারেটরগণ ব্লক ছেড়ে দেয়ায় (Relinquished) এ পর্যায়ের পিএসসি কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে। ১৯৭৫ সালের ৯ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বৃটিশ কোম্পানী, শেল পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেড এর মালিকানাধীন ৫টি গ্যাসক্ষেত্র যথাঃ তিতাস, হবিগঞ্জ, রশিদপুর, কৈলাশটিলা ও বাখরাবাদ নামমাত্র ৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড ষ্টার্লিংয়ে ক্রয় করে। তৎকালীন সরকারের এ সুদূর প্রসারী সিদ্ধান্তের ফলে এ প্রধান গ্যাসক্ষেত্র গুলোর ওপর রাষ্ট্রের একক মালিকানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত রচিত হয়।    

গতি সঞ্চালন : ১৯৮০ পরবর্তী সময়
১৯৮০’র দশক পেট্রোবাংলার গতিশীল অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করে। এ সময়ে মূলাদী, বেগমগঞ্জ, সিংরা, বিয়ানীবাজার, আটগ্রাম, ফেণী, ফেঞ্চুগঞ্জ, সীতাকুন্ড, বগুড়া, কামতা, মরিচাকান্দি (মেঘনা) ও বেলাবো’তে (নরসিংদী) ১২টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় এবং বেগমগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ফেণী, ফেঞ্চুগঞ্জ, কামতা, মরিচাকান্দি (মেঘনা) ও বেলাবোতে (নরসিংদী) ৭টি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়। তন্মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জ-২ হচ্ছে এ যাবৎ বাংলাদেশে খননকৃত (৪,৯৭৭ কি.মি.) গভীরতম কূপ। ইত্যবসরে একটি  নতুন মাইলফলক অর্জিত হয় যখন পেট্রোবাংলা ১৯৮৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেট নং-৭ এ প্রথম বাণিজ্যিক তৈল আধার (Commercial Oil Pool) আবিস্কার করে। ১৯৮৯ সালে প্রথমে জাতীয় অনুসন্ধান কোম্পানী এবং পরবর্তীতে অনুসন্ধান ও উৎপাদন কোম্পানী হিসেবে বাপেক্স গঠনের পর হতে কোম্পানিটি এর অনুসন্ধান ও উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং ৪টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে শাহবাজপুর, সালদানদী, শ্রীকাইল ও সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করেছে।

১৯৮১ সালে পিএসসির আওতায় শেল অয়েল কোম্পানীকে (শেল) চট্টগ্রামের পাহাড়ী এলাকায় পেট্রোলিয়াম অনুসন্ধানের জন্য বরাদ্দ (Award) দেয়া হয়। শেল সেখানে ভূ-তাত্ত্বিক ও সাইসমিক জরিপ কাজ পরিচালনা করে এবং সীতাপাহাড় কূপ খনন করে যা শুষ্ক (Dry) ছিল। পরবর্তীতে শেল দেশের সর্ব উত্তর পশ্চিমে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং অত্র এলাকার শালবনহাটে প্রথম কূপ খনন করে যেটিও শুষ্ক (Dry) ছিল। ১৯৮৮ সালে সিমিটার এক্সপেস্নারেশন লিমিটেড কে সুরমা বেসিনে আরেকটি পিএসসি যেটি এখন ব্লক নং ১৩ বরাদ্দ (Award) দেয়া হয়। তারা সিলেটের ভূ-গঠনে  (Structure) তৈল আবিস্কারের ব্যাপ্তি প্রমাণে (To Prove The Extent Of The Oil Discord) ব্যর্থ হয়, তবে তারা জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার করে।

জাতীয় জ্বালানি নীতি, ১৯৯৬ প্রকাশ এবং মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট (পিএসসি) গৃহীত হওয়ার পাশাপাশি পুরো বাংলাদেশ ভূখন্ডকে ২৩টি অনুসন্ধান বস্নকে পুনঃসংজ্ঞায়িত করণের মাধ্যমে দেশে তৈল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। নতুন বিন্যাসের আওতায় প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পিএসসি’র অধীন ৪টি কোম্পানীকে ৮টি ব্লক বরাদ্দ দেয়া হয়। এ সকল ব্লকে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কার্যক্রম কিছুটা সীমিত ছিল এবং অধিকাংশ ব্লকে সীমিত আকারে সাইসমিক জরিপ চালানো হয়েছিল। এ সকল বস্নকে মোট ১১টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় এবং ৩টি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। গ্যাসক্ষেত্রগুলো হল- মৌলভীবাজার, সাঙ্গু (সমুদ্রাঞ্চল) ও বিবিয়ানা। সিমিটার এক্সপেস্নারেশন লিঃ কর্তৃক আবিষ্কৃত জালালাবাদ গ্যাসক্ষেত্রসহ উল্লিখিত ৩টি গ্যাসক্ষেত্র পিএসসি’র আওতায় উন্নয়ন সাধন করা হয় এবং এগুলো বর্তমান উৎপাদনরত। মূল্যায়নকালে বিবিয়ানায় দেশে প্রথম ৩ডি সাইসমিক জরিপ কাজ চালানো হয়। মার্চ, ২০০৭ সালে বিবিয়ানা উৎপাদনের আওতায় আসে। ৯০ দশকের শেষার্ধে আরেকটি পিএসসি বিডিং রাউন্ডের মাধ্যমে আরও ৪টি ব্লক বরাদ্দ দেয়া হয়। এগুলো হল - শেল/কেয়ার্ণ/বাপেক্স ব্লক নং-৫ ও ১০, ইউনিকল/বাপেক্স ব্লক নং-৭ এবং তাল্লো/শেভরন/ টেক্সাকো/বাপেক্স ব্লক নং-৯। এ সকল ব্লকে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কেবল ব্লক নং-৯ এ উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল, যেখানে ৩ডি সাইসমিকসহ সাইসমিক জরিপের ভিত্তিতে ৫টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছিল।

অফসোর বিডিং রাউন্ড ২০০৮ নবগঠিত গভীর সমুদ্রাঞ্চলের ব্লকসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যা কিছু বিড আকর্ষণে সক্ষম হয়। অবশ্য, অধিকাংশ ব্লকে আসন্ন সমুদ্র সীমা বিরোধ একটি অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছিল। এ প্রেক্ষাপটে কনোকো ফিলিপসে্র সাথে দুটি ব্লকের বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০১১ সালে ২টি ব্লকের জন্য পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়। কনোকো ফিলিপস্ এ ব্লকগুলোতে প্রাথমিক সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করে। তারা কোন অনুসন্ধান কূপ খনন না করেই ২০১৪ সালে বস্নকগুলো ছেড়ে দেয় (Relinquished)।

২০১২ সালের ১৪ মার্চ তারিখে ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি (আইটিএলওএস) প্রদত্ত রায়ের ফলে মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর পূর্ব দিকের গভীর সমুদ্রাঞ্চলের বস্নকসমূহ পুনর্বিন্যাস করা হয়। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের একটি বিশাল অর্জন। ডিসেম্বর, ২০১২ সালে বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০১২ ঘোষণা করা হয় এবং উলেস্নখযোগ্য প্রাথমিক সাড়া পাওয়া যায়। এ বিডিং রাউন্ডের আওতায় ব্লক এসএস-০৪ ও ব্লক এসএস-০৯ এর জন্য ওএনজিসি ভিদেশ, অয়েল ইন্ডিয়া ও বাপেক্সের সাথে ২টি এবং ব্লক এসএস-১১ এর জন্য সান্টোস, ক্রিস এনার্জী ও বাপেক্সের সাথে ১টি, অর্থাৎ মোট ৩টি অগভীর সমুদ্রাঞ্চলের পিএসসি স্বাক্ষরিত হয়। গভীর সমুদ্রঞ্চলের জন্য জানুয়ারি, ২০১৪ মাসে গৃহীত দরপত্র প্রক্রিয়াধীন আছে। পিএসসি স্বাক্ষরের পর হতে মালিকানায় অনেক পরিবর্তন সাজিত হয়েছে এবং চুক্তি পুনর্গঠন করা হয়েছে। স্থলভাগের সকল পিএসসি অনুসন্ধান থেকে উৎপাদন পর্যায় পর্যন্ত পূর্ণতা লাভ করেছে এবং ব্লকসমূহের অন্তর্গত অধিকাংশ এলাকা ছেড়ে দেয়া (Relinquished) হয়েছে। ডিসেম্বর, ২০১৪ অনুযায়ী শেভরনের পরিচালনাধীন ব্লক-১২, ১৩ ও ১৪ (বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র)-এর উৎপাদন এলকাসমূহে পিএসসি কার্যকর রয়েছে।

যদিও বাংলাদশের তৈল ও গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দীর তথাপি অনুসন্ধান ঘনতা (Exploration Density) লক্ষ্যমান ততখানি বৃদ্ধি পায়নি যতখানি অভ্যন্তরীন তৈল ও গ্যাস সম্পদকে প্রমাণিত রিজার্ভে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজন ছিল। অবশ্য অনুসন্ধান সাফল্যের হার উচ্চমাত্রার, যেমন- ৩টি কূপের মধ্যে প্রায় ১টি। পিএসসি’র অনুসন্ধানও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। ডিসেম্বর, ২০১৪ অনুযায়ী ২৬টি আবিস্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ১৯টি উৎপাদনে ছিল। ইতোমধ্যে দৈনিক সর্বাধিক গ্যাস উৎপাদনের মাত্রা ২,৬০০ এমএমসিএফডি অতিক্রম করেছে, যেখানে ডিসেম্বর, ২০১৪ পর্যন্ত দৈনিক গড় গ্যাস উৎপাদন ২,৫০০ এমএমসিএফডি এর অধিক বজায় ছিল। উৎপাদন বৃদ্ধি সত্বেও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটানো সম্ভব হচ্ছে না এবং যোগান ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে। এ ব্যবধান দূর করার জন্য সরকার এলএনজি আমদানির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

খনিজঃ
পেট্রোবাংলা দেশের খনিজ সম্পদ উন্নয়নের দায়িত্বও পালন করে। খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান কার্যক্রম জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশ (জিএসবি) এর ওপর ন্যস্ত, আর এর অর্থনৈতিক উন্নয়নের দায়িত্ব পেট্রোবাংলা পালন করে। বিওজিএমসির সাথে অঙ্গীভূত হওয়ার আগ পর্যন্ত খনিজ বিষয়ক কার্যক্রম বাংলাদশে মিনারেল এক্সপেস্নারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএমইডিসি) এর ওপর ন্যস্ত ছিল। পেট্রোবাংলা ভূগর্ভস্থ দুটি খনি উন্নয়ন করেছে- একটি বড়পুকুরিয়ায় কয়লা যার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় সেপ্টেম্বর, ২০০৫ সালে এবং অপরটি মধ্যপাড়ায় গ্রানাইট যার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে মে, ২০০৭ সালে। নিশ্চিত অন্যান্য আহরণ কার্যক্রম, যেমন-চুনাপাথর, হোয়াইট ক্লে ও বোল্ডার, ব্যুরো অব মিনারেল ডেভেলপমেন্ট (বিএমডি) এর মাধ্যমে সরকার নিয়ন্ত্রণ করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী


উপদেষ্টা

প্রতিমন্ত্রী

সচিব

 
দরপত্র ও প্রকিউমেন্ট
প্রজেক্ট কার্যক্রমের ম্যাপ
 
শিরোনাম বিজ্ঞপ্তি বন্ধের তারিখ (DD.MM.YY) শুদ্ধিপত্র ডাউনলোড
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি-জিটিসিএল পাইপলাইন স্থাপনের দরপত্র ১৬.০৬.১৯ -- ডাউনলোড
দরপত্র বিজ্ঞপ্তি-জিটিসিএল নির্মাণ কাজের দরপত্র ২৯.০৫.১৯ -- ডাউনলোড
শিরোনাম বিজ্ঞপ্তি বন্ধের তারিখ শুদ্ধিপত্র ডাউনলোড
 
 
পেট্রোবাংলার কোম্পানিসমূহ
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

পেট্রোবাংলা
 
 
আমাদেরকে অনুসরণ করুন
 
যোগাযোগ করুন
 
পেট্রোসেন্টার, ৩ কাওরানবাজার বা/এ
ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ
ফোনঃ +৮৮০ ২ ৮১৮৯৯২৯
+৮৮০ ২ ৮১৮৯৯৫৫ (আইটি)
ফ্যাক্সঃ +৮৮০ ২ ৯১২০২২৪
ইমেইলঃ info@petrobangla.org.bd
 
 
হিট গণনা
 
কপিরাইট @ পেট্রোবাংলা. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.
সর্বশেষ আপডেট: ২৩-০৫-২০১৯ ০২:৩৪অপরাহ্ন
ওয়েবসাইট@এলটুএন.টীম দ্বারা পরিচালিত